যুক্তরাষ্ট্রে ১ সেন্ট মূল্যের কয়েন বা ‘পেনি’ সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি বছর শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কয়েনটির উৎপাদন বন্ধ করার পর এখন বাজারে পর্যাপ্ত পেনি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে খুচরা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা। অনেক খুচরা বিক্রেতা বাধ্য হয়ে এখন দাম সমন্বয় করে পণ্য বিক্রি করছেন। খবর বিবিসি।
ট্রাম্প প্রশাসন ১ সেন্টের কয়েন তৈরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় এ বছরের মে মাসে। তার আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমাদের জাতীয় বাজেট থেকে অপচয় কমাতে হবে। আর তা ১ পেনি করেই হোক। পেনি উৎপাদন ব্যয়সাপেক্ষ ও অপ্রয়োজনীয়। একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৪ সেন্ট খরচ হয়।’
মার্কিন সরকারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, কয়েনের ঘাটতি শুরু হবে ২০২৬ সালের দিকে। কিন্তু বাস্তবে তা অনেক আগেই শুরু হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) থেকে পেনি পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ব্যাংক থেকে এ কয়েন সংগ্রহ করতে পারছে না।
জাতীয় খুচরা বিক্রেতা সংস্থার ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডিলান জিওন বলেন, ‘আমরা প্রথম পেনি সংকটের খবর পাই আগস্টের শেষ দিকে। এখন যেসব ব্যবসায় নগদ লেনদেন করা হয়, সেখানে সবাই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।’
বেশির ভাগ দোকান এখন অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিক্রয়মূল্যকে নিকটতম মুদ্রা ৫ সেন্টে মিলিয়ে নিচ্ছেন। এতে খুচরা ফেরতের ঝামেলা এড়ানো যাচ্ছে। তবে নিউইয়র্কসহ কিছু শহরে নিয়ম রয়েছে যে গ্রাহককে অবশ্যই পুরো খুচরা ফেরত দিতে হবে। এতে অনেক দোকান ক্রেতার ক্ষতি না করে বরং দাম কিছুটা কমিয়ে ধরছেন। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে।
ডিলান জিওন বলেন, ‘প্রতিটি নগদ লেনদেনে যদি ৪ সেন্ট করে ক্ষতি হয়, তা ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু যখন একই ঘটনা সারা দেশের শত শত দোকানে ঘটে, তখন সেটি ব্যবসার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কনভিনিয়েন্স স্টোরসের মুখপাত্র জেফ লেনার্ড বলেন, ‘ছোট দোকানগুলো এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ সাধারণত পেনিকে তুচ্ছ মনে করে, কিন্তু যখন তারা খুচরা ফেরত পাচ্ছে না, তখনই এর অভাব টের পাচ্ছে।’
কনভিনিয়েন্স স্টোর চেইন কুইক ট্রিপ জানিয়েছে, তারা প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে দাম ৫ সেন্টে নির্ধারণ করছে। এতে তাদের বছরে প্রায় ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে কিছু দোকান গ্রাহকদের উৎসাহ দিচ্ছে ঘরে থাকা অতিরিক্ত পেনি এনে জমা দিতে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কয়েনগুলো সাধারণত মানুষের পকেটে, আলমারিতে বা কাচের জারে পড়ে থাকে। সেগুলো বাজারে এখনো লেনদেন করা হচ্ছে না।